খ্যাতিমান পশ্চিমবঙ্গের সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে বুকে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করলে পরিবার তাকে দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার বুকে দুটি স্টেন্ট বসানো হয়েছে। বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী এই শিল্পীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কলকাতার বিভিন্ন গণমাধ্যম—আনন্দবাজার পত্রিকা, এই সময়সহ—খবর প্রকাশ করেছে যে রাত দুইটার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে আপাতত তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নচিকেতার কন্যা ধানসিঁড়ি চক্রবর্তী জানান, “বাবা কয়েকদিন ধরেই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা মুহূর্ত বিলম্ব না করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো গেছে। এখন আগের তুলনায় অনেকটা ভালো আছেন।”
আজ রোববার আসানসোলে তার একটি অনুষ্ঠান থাকার কথা ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের যাবতীয় অনুষ্ঠানও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

নচিকেতা চক্রবর্তী বাংলা আধুনিক সংগীতের এমন এক নাম, যিনি নব্বই দশকে বাংলা গানের জগতে নতুন স্রোত সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯৬০ সালের ১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া নচিকেতা কৈশোর থেকেই গান, কবিতা ও সুরের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তার প্রথম অ্যালবাম “এই বেঈমান পৃথিবী” প্রকাশের পরই তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে “নীলাঞ্জনা”, “বৃদ্ধাশ্রম”, “নষ্ট জোছনা”, *“বন্ধু”*সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।
তার গানগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমাজবাস্তবতা, মানবমনের গভীর অনুভূতি, ব্যঙ্গ, প্রতিবাদ এবং নিখাদ মানবিকতা। নচিকেতা খুব সহজ শব্দে মানুষের জটিল অনুভূতিকে তুলে ধরতে পারেন—যা তাকে সাধারণ শ্রোতার হৃদয়ের খুব কাছে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত জীবনের হাসি-কান্না, সংগ্রাম এবং যন্ত্রণা তার গানে গভীরভাবে ফুটে ওঠে।
গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় হলেও তিনি বহু গানের গীতিকার ও সুরকার। মঞ্চে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, হাস্যরস এবং শ্রোতাদের সঙ্গে অসাধারণ যোগাযোগের ক্ষমতার কারণে তার লাইভ শো আজও সমান জনপ্রিয়। ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশেই তার বিশাল শ্রোতাশ্রেণি রয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে ধীর-স্থির ও নিরহঙ্কার এই শিল্পী পরিবার ও সংগীত—এ দুই নিয়েই থাকেন। অসুস্থতার খবরে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও অনেকে দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।