শীতের সময় গোসলের পানির তাপমাত্রা কেমন হবে—এ সিদ্ধান্ত আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই ঠান্ডা আবহাওয়ায় আরামের জন্য গরম পানি ব্যবহার করেন, আবার কেউ কেউ ঠান্ডা পানির তীক্ষ্ণ সতেজ অনুভূতিকে উপকারী মনে করেন। কিন্তু এই দুই ধরনের পানিই স্বাস্থ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম পানি শরীরকে আরাম দেয়, পেশির টান কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। শীতে শরীর ব্যথা বা ক্লান্তি থাকলে গরম পানি স্বস্তি দেয়। গরম পানির বাষ্প সর্দি–কাশির কারণে নাক বন্ধ হয়ে থাকলে সেটিও কমাতে সাহায্য করে। তবে গরম পানির একটি বড় সমস্যা হলো—এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে, চুলকানি বা জ্বালা অনুভূত হয়। যাদের একজিমা বা সোরিয়াসিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে গরম পানি সমস্যা বাড়াতে পারে।
ঠান্ডা পানির আলাদা উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরে সাদা রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। ঠান্ডা পানি শরীরকে দ্রুত সতেজ করে, শক্তি বাড়ায় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রদাহ কমানো ও ব্যথা উপশমেও ঠান্ডা পানির ভূমিকা রয়েছে। তবে যারা শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য ঠান্ডা পানি শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। হঠাৎ ঠান্ডা পানি লাগলে কারও কারও শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা অনুভূতি অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শীতে গোসলের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অতিরিক্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা পানি—দুটিই এড়িয়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা। এতে শরীর আরাম পায়, ত্বকও শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
সূত্র: এনডিটিভি