বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মভীরু উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ধর্মকে সম্মান করি, পালন করি; কিন্তু রাষ্ট্রকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার ধারণায় আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই। বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের দেশ—এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা।” তিনি আরও বলেন, সকল বিভেদমূলক প্রচেষ্টাকে পরাজিত করে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে বিএনপিকেই ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের অংশ হিসেবে দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। তাঁর ভাষ্য, এই কর্মসূচি প্রমাণ করে বিএনপি একটি আধুনিক ও দূরদর্শী রাজনৈতিক দল। “বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতির দল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা রয়েছে—এ প্রবাহ ভাঙতে হবে,” বলেন তিনি।
ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচি এখনো তৃণমূলে সেইভাবে পৌঁছায়নি। গ্রামে গেলে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।” তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং মন্তব্য করেন যে সক্রিয়তার ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দলটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি।
সবশেষে তিনি বলেন, ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার হলে দলীয় অবস্থান দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়েও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।