কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।
আহতদের মধ্যে তামজিদ মোল্লা (১৬), রাজু মোল্লা (২২), বাবু মিয়া (২৫), বশির মিয়া (৫৫), ফয়সাল মোল্লা (৩৭), সাইফুল (২২), শফিকুল ইসলাম (১৬), হযরত আলী (৪০), আব্দুর রহমান (১৬), ফখর উদ্দিন (১৬) ও শোয়েব (৩৬) চিকিৎসা নিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গুরুতর আহত ফখর উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হলো
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, লুন্দিয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ি ও শেখ বাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ বাধে। মোল্লা বাড়ির নেতৃত্বে ছিলেন ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া; অপরদিকে শেখ বাড়ির পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাইন উদ্দিন মিয়া ও দিলু মিয়া।
এর আগের দিন রোববার আগানগর টুকচাঁনপুর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। মোটরসাইকেল চালকদের রাজনৈতিক পরিচয়কে ঘিরে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনায় মোল্লা বাড়ির নিজাম (৪২) ও তাঁর ছেলে তামিম (২২) আহত হন। এর পরদিন সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
মোল্লা বাড়ির সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, “আমরা আহতদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলচালকরা আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় শেখ বাড়ির বিএনপিপন্থিদের সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এর জেরেই সংঘর্ষ ঘটেছে। আমাদের বাড়ির অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।”
অন্যদিকে শেখ বাড়ির গোলাপ মিয়ার অভিযোগ, “মোল্লা বাড়ির বিএনপিপন্থিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মিল রেখে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে। প্রতিবাদ করায় সংঘর্ষ বাধে। আমাদেরও ১৫ জন আহত হয়েছে।”
পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উম্মে হাবীবা জুঁই বলেন, “বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১১ জন আহত চিকিৎসা নিতে আসেন। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে।”
ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুইটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”