ভারতের মাটিতে ২৫ বছর পর প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের হাতছানি দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। প্রোটিয়ারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লিড বাড়িয়ে ভারতের সামনে এমন লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে, যা ঘরের মাঠে ভারত কখনো তাড়া করে জিততে পারেনি। শেষ দিন জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার মাত্র ৮ উইকেট। ভারতের ৫২২ রান প্রয়োজন।
চতুর্থ দিনের সকালে বলের চরিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। তৃতীয় দিন পর্যন্ত অনায়াসে ৭০ ওভার খেললেও ভারতের ব্যাটিং শুরু হতেই উইকেট আচমকা কঠিন হয়ে উঠে। ৫৪৯ রানের লক্ষ্যে প্রথমে মার্কো ইয়ানসেন যশস্বী জয়সওয়ালকে বাউন্সারে aচেপে ধরে তার প্রিয় কাট শটে সাজঘরে ফেরান। এরপর সাইমন হার্মার দুর্দান্ত অফব্রেকে লোকেশ রাহুলকে বোল্ড করে ভারতকে আরও চাপে ফেলেন।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর লম্বা স্পেল পেলেও ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিতে পারেননি। জাদেজা রায়ান রিকেলটনকে এবং পরে এইডেন মার্করামকে আউট করেন। ওয়াশিংটন টেম্বা বাভুমার গ্লাভে লেগে বেরিয়ে যাওয়া বল থেকে ক্যাচ তুলতে সাহায্য পান।
মাঝে ১৮ রানে ৩ উইকেট পড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকা ধীরস্থির ছিল। ট্রিস্টান স্টাবস ও টনি ডি জর্জি সুইপ–রিভার্স সুইপে চাপ সামলান। দু’জনে মিলে ১০১ রানের জুটি গড়ে। স্টাবস ৯৪ রানে ফিরলেও সিরিজে সর্বোচ্চ রান (১৬৩) করে রাখেন।
জয়ের লক্ষ্য আরও বড় করার পরই আসে ডিক্লেয়ার। লিড গিয়ে দাঁড়ায় ৫৪০-এর ওপরে। যা অস্ট্রেলিয়ার ২০০৪ নাগপুর টেস্টের চেয়েও বেশি।
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই বিপদ আসে। ইয়ানসেনের শর্ট বল বারবার জয়সওয়ালকে বিব্রত করে। কাট শটে আরেকবার তার ভুলের শিকার হন তিনি। রাহুল লড়াই করলেও হার্মারের ‘ড্রিফট–ডিপ’ অফব্রেক তাকে পরাস্ত করে।
সাই সুদর্শন এলবিডব্লিউ থেকে ‘আম্পায়ার্স কল’-এ বেঁচে গেলেও দিনশেষে ভারত ছিল দোলাচলে। উইকেট যে কোনো সময় পড়তে পারত-এমন ইঙ্গিত ছিল প্রতিটি বলে।
আসলে এ দৃশ্য ভারতের জন্য নতুন নয়। তারা অনেক সময় দেরিতে ঘোষণা করে ম্যাচে ফেরানোর সুযোগ না দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে। এবার সেই কৌশলই তাদের বিপক্ষে কাজ করছে।
শেষ দিনে আলো কমে আসার কারণে খেলা সাধারণত বিকেল ৪টার পর বাড়ে না। তাই ছয় ঘণ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ৮ উইকেট-এ যেন তাদের সামনে সোনার সুযোগ।
ভারতের সামনে এখন প্রায় অসম্ভব এক পাহাড় সমান লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিহাস গড়তে আর মাত্র কয়েকটি উইকেট দূরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৮৯ এবং ২৬০/৫ ডিক্লেয়ার।
ভারত ২০১ এবং ২৭/২-জয়ের জন্য আরও ৫২২ রান প্রয়োজন।